সোমবার, ২৭ জুলাই ২০২৬, ০৫:৪৭ অপরাহ্ন
মেসি মানেই গোল নয়, মাঠে লেখা হয় ইতিহাস!
অনলাইন ডেস্ক
মায়ামি জার্সিতে একের পর এক ইতিহাস লিখছেন লিওনেল মেসি। বুধবার রাতে নিউ ইংল্যান্ড রেভল্যুশনের মাঠে ইন্টার মায়ামির ২-১ গোলের জয়ে ঝলসে উঠলেন আর্জেন্টাইন ফুটবল সম্রাট। জোড়া গোল করে শুধু দলকে জয় এনে দিলেন না, গড়লেন মেজর লিগ সকারের (এমএলএস) ইতিহাসে অনন্য এক রেকর্ড—টানা চার ম্যাচে একাধিক গোলের কীর্তি, যা আগে কেউ কখনো করেননি।
ম্যাসাচুসেটসের সেই রোশনাইভরা রাতে পুরো ম্যাচজুড়েই আলো ছড়িয়েছেন আগুনে থাকা মেসি। শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত তার দাপট দেখে মনে হচ্ছিল, যেন বয়স তার জন্য শুধুই একটি সংখ্যা! ম্যাচের ২৭তম মিনিটে প্রতিপক্ষ ডিফেন্ডার ট্যানার বিসনের বাজে পাস কাড়েন মেসি। ডান দিক ধরে এগিয়ে গিয়ে বক্সে ঢুকে কোনাকুনি শটে বল পাঠান জালে, ইন্টার মায়ামি এগিয়ে যায় ১-০ তে।
মাত্র ১০ মিনিট পরেই মাঠের রাজা আবার জানান দেন নিজের উপস্থিতি। সাবেক সতীর্থ সার্জিও বুসকেটসের নিখুঁত পাস ধরে বক্সের বাইরে থেকে নিচু শটে বল পাঠান নিউ ইংল্যান্ডের গোলরক্ষক ইভাচিচের বাঁ দিক দিয়ে জালে। প্রথমার্ধেই জয় নিশ্চিত করে ফেলে মায়ামি, আর মেসি লেখেন নতুন ইতিহাস।
এই ম্যাচে মেসির জোড়া গোলের ফলে তিনি হয়ে উঠেছেন এমএলএস ইতিহাসের প্রথম খেলোয়াড়, যিনি টানা চারটি লিগ ম্যাচে দুই বা ততোধিক গোল করেছেন।
মেসির ওই জোড়া গোল এসেছিল—
২৮ মে: মন্ট্রিয়ালকে ৪-২ ব্যবধানে হারানো ম্যাচে
৩১ মে: কলাম্বাস ক্রুর বিপক্ষে ৫-১ গোলে জয়
৫ জুলাই: অ্যাওয়েতে মন্ট্রিয়ালকে ৪-১ এ হারানো ম্যাচে
৯ জুলাই: নিউ ইংল্যান্ডের মাঠে ২-১ গোলে জয়
এই চার ম্যাচেই করেছেন মোট ৮ গোল! এর আগেও ফিলাডেলফিয়ার সঙ্গে ৩-৩ ড্র হওয়া ম্যাচে জালে বল জড়িয়েছিলেন ‘লা পুলগা’।
এই ধারাবাহিক দুর্দান্ত পারফরম্যান্সে ইন্টার মায়ামি উঠে এসেছে ইস্টার্ন কনফারেন্সের পঞ্চম স্থানে, যা প্লে-অফের দৌড়ে বিশাল অগ্রগতি।
তবে শুধু এমএলএস নয়, ক্লাব বিশ্বকাপেও নিজের নাম জানান দিয়েছেন মেসি। পোর্তোর বিপক্ষে ২-১ ব্যবধানে জয় পাওয়া ম্যাচেও গোল করেছিলেন। যদিও শেষ ষোলোতেই বিদায় নেয় দলটি।
তবুও গোলের ধারাবাহিকতা ও মাঠে তার দুর্দান্ত উপস্থিতি যেন বারবার প্রমাণ করছে—বয়স নয়, শ্রেষ্ঠত্বই বড় কথা। মায়ামিতে যোগ দেওয়ার পর থেকেই যেন আর্জেন্টাইন এই জাদুকর ফিরেছেন নিজের পুরোনো রূপে।
ম্যাচ শেষে ইন্টার মায়ামির কোচ হ্যাভিয়ের মাশ্চেরানো গণমাধ্যমকে বলেন, ‘মেসি শুধু গোল করছে না, নেতৃত্বও দিচ্ছে। ওর উপস্থিতি তরুণদের আত্মবিশ্বাস দেয়, দলকে আগ্রাসী মানসিকতায় মাঠে নামায়।’
লিওনেল মেসি নামেই যেখানে শুরু হয় ইতিহাস। মাঠে নামলেই যেন গোল নয়, রচিত হয় কিংবদন্তির গল্প। নিউ ইংল্যান্ডের মাঠে সেই গল্পটাই আবারও রাঙিয়ে দিলেন ‘লা পুলগা’।
আর প্রশ্নটা থেকেই যাচ্ছে—৩৮ বছর বয়সেও এতটা ক্ষুধার্ত, এতটা ধারালো কীভাবে? উত্তরটা সহজ—কারণ তিনি মেসি।